অরিত্রীর আত্মহত্যা : শ্রেণি শিক্ষিকা কারাগারে

বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ | 594 বার

অরিত্রীর আত্মহত্যা : শ্রেণি শিক্ষিকা কারাগারে

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায গ্রেপ্তার শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সাঈদ তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে বুধবার এজাহারভুক্ত এ আসামিকে রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তবে ওই শিক্ষিকাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোন আবেদন করা হয়নি।

আদালতে শিক্ষিকার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। তার আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম শুনানিতে বলেন, এ ঘটনায় তার কোন সম্পর্ক নেই। এজাহারে বাদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেন নাই। এর বিরোধিতা করে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জামিন পেলে পলাতক হবে। মামলার তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হোক।

স্কুলের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল স্কুলের ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ ছিল, এই ছাত্রী এবং তার বাবা-মা’র সঙ্গে যে ধরণের আচরণ করা হয়েছিল, তাতেই অপমানিত হয়ে অরিত্রি অধিকারী আত্মহত্যা করে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে এসে নকলের চেষ্টা করায় অরিত্রির বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু এই আত্মহত্যার ঘটনার পর বাংলাদেশে এখন তীব্র সমালোচনা এবং তর্ক-বিতর্ক চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরা যে ধরণের আচরণ করে তা নিয়ে।

অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভিকারুননিসা নুন স্কুলের ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার ইনচার্জ জিনাত আক্তার এবং শ্রেণী শিক্ষক হাসনা হেনাকে বরখাস্তের সুপারিশ করে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বরাত দিয়ে এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হচ্ছে, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে দোষীদের চিহ্ণিত করা হয়েছে। এতে ভিকারুননিসা নুন স্কুলের নানা অনিয়ম-অসঙ্গতি বেরিয়ে এসেছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, অরিত্রি অধিকারীর সঙ্গে যে ধরণের নির্দয় আচরণ করা হয় সেটি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে এবং আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে বলে তদন্ত কমিটির মনে হয়েছে। এর দায় এই তিনজন শিক্ষক এড়াতে পারে না। স্কুলের পরিচালনা কমিটিকে এই তিন শিক্ষককে বরখাস্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এই তিন শিক্ষকের বেতনের সরকারি অংশ (এমপিও) বাতিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Development by: visionbd24.com