অস্তিত্ব সংকটে মিল্কভিটা, বিপাকে দুগ্ধ খামারিরা

বৃহস্পতিবার, ০৭ মার্চ ২০১৯ | ১:৪০ অপরাহ্ণ | 728 বার

অস্তিত্ব সংকটে মিল্কভিটা, বিপাকে দুগ্ধ খামারিরা

দুগ্ধ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জ। মূলত পাস্তুরিত দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাকে ঘিরে গড়ে ওঠে এসব গরুর খামার। বর্তমানে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ বাজার মূল্যের চেয়ে অর্ধেকমূল্যে দুধ সংগ্রহ করায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা। তাই মিল্কভিটায় দুধ সরবরাহ না করে খোলাবাজারেই দুধ বিক্রি করছেন তারা। এতে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে পাস্তুরিত দুধ উৎপাদনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি।

মানিকগঞ্জের চরাঞ্চলসহ সাতটি উপজেলায় দুগ্ধ উৎপাদনে গরু পালন করছেন এলাকার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। মূলত এ জেলায় ১৯৭৩ সালে যাত্রা শুরু করা পাস্তুরিত দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা কারখানাকে ঘিরে গড়ে ওঠে এসব খামার। কিন্তু গত কয়েক যুগ ধরে প্রতিষ্ঠানটি খামারিদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে দুধ সংগ্রহ করলেও সম্প্রতি বাজার মূল্যের চেয়ে অর্ধেক মূল্যে দুধ সংগ্রহ করছে। এতে চরম হতাশ খামারিরা।

খামারি একজন বলেন, বাজারে হল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। আর আমাদের থেকে ৩০-৪০ টাকা রাখছে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় মিল্কভিটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন খামারিরা। কাঙ্ক্ষিত মূল্যে দুধ বিক্রি করছেন খোলা বাজার ও পাইকারদের কাছে। এতে মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠানের দুধ সংগ্রহে নিয়োজিত ২৭টি সমিতির মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ২১টি সমিতি। কার্যকর আছে মাত্র ৬টি। ২০০৩ সালে কারখানাটি খামারিদের কাছ থেকে দৈনিক ৫ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪শ’ লিটারে।

একজন পাইকার বলেন, দুধের লিটারে কম টাকা দেয়। এতে আমাদের সমিতি কমে গেছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ডিআরএমপি প্রকল্প চালু হলে খামারিদের উৎপাদিত দুধ ন্যায্য মুল্যে বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফরহাদুল আলম বলেন, ‘ডিআরএমপি প্রজেক্টটি যদি চালু হয়, এতে মানিগঞ্জবাসী অনেক উপকার পাবে। প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, জেলায় ১ হাজার৭৪টি খামারে ৪লাখ ৫৫ হাজার ৯শ’ গাভী রয়েছে। আর প্রতিদিন দুধ উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৮লিটার।

Development by: visionbd24.com