ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে জাতির জনকের অবদান

সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ | 48 বার

ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে জাতির জনকের অবদান

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে ফেলার অপচেষ্টায় এক কালো অধ্যায়ের সূচনা করে অপরিণামদর্শী ঘাতকরা। অকৃতজ্ঞ ঘাতকরা ১৫ আগস্ট কালোরাতে শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, ঘৃণ্য নরপশুরা একে একে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালকে। জঘন্যতম এই হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মণি, কর্নেল জামিলসহ ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয় স্বজনকে।
১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মম ও কলঙ্কজনক অধ্যায়ের দিন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যা ঘটেছিল তা মানবেতিহাসের ঘৃণ্যতম অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সর্বোপরি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি এ ঘটনা ছিল ভয়ঙ্কর কুঠারাঘাত। বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা তখন বেলজিয়ামে অবস্থান করায় ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।
স্বাধীনতার পর দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী পদক্ষেপে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে থাকে। দীর্ঘদিনের শোষিত-বঞ্চিত এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই সময়ও তিনি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হন। সব ষড়যন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর এই সফলতা ও দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার গতি বুঝতে পেরেই স্বাধীনতা বিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গতিশীল, সাহসী ও ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে এই ভূ-খন্ডের মানুষ হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। আমরা পেয়েছিলাম নিজস্ব জাতিরাষ্ট্র, গর্বিত আত্মপরিচয়। ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। ১৬ কোটি বাঙালির অন্তরে লালিত হচ্ছে তার ত্যাগ ও তিতিক্ষার সংগ্রামী জীবনাদর্শ। এটাই আমাদের সব শক্তির উৎস।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের বর্বরোচিত এই হত্যাকান্ডে দেশ ও জাতির যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। এই ঘটনায় গোটা জাতি গভীরভাবে মর্মাহত এবং শোকে মুহ্যমান। জাতির জনক দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর সেই স্বপ্ন সার্থক রূপায়নে তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন রাত পরিশ্রম করে চলেছেন। আমি জাতির জনকসহ তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যের আত্মার শান্তি কামনা করছি। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অনুযায়ী একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকারকে সহযোগিতা আমাদের দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের, একটি সোনার বাংলার চিত্র বিশ্বের মানচিত্রে ফুটিয়ে তোলার।
বলার অপেক্ষা রাখে না, ইতিহাসের এই নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। সদ্য স্বাধীন দেশ গঠনে যখন সরকার ব্যস্ত, তখনই হত্যা করা হলো দেশের স্থপতিকে। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার নীলনকশা। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় চায়নি, বাংলাদেশের এমন শত্রু কম ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের বাইরে যেমন প্রত্যক্ষ শত্রুরা ছিল, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের ভেতরেও তার আদর্শ ও লক্ষ্যের প্রচ্ছন্ন বিরোধীদের শক্ত অবস্থান ছিল। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের মদদে এ দেশেরই কিছু দুর্বৃত্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে জাতির জনককে। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনা কেবলমাত্র এক ব্যক্তিকেই হত্যার প্রয়াস ছিল না, ছিল জাতির স্বাধীনতার শক্তিকে হত্যার অপচেষ্টা। ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে খুন করে তারা একটি আদর্শকে খুন করতে চেয়েছিল। কিন্তু মুজিবাদর্শের বাংলাদেশকে তাঁর স্বপ্ন থেকে বিচ্যুত করা যায়নি। স্বাধীনতার আদর্শকে নিরঙ্কুশ করতে এখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার কাজে অধিকতর মনোনিবেশ করতে হবে। যখন বিশ্বজুড়ে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, সংকীর্ণ রাজনৈতিক মতবাদ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তখন বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহান নেতার ত্যাগের আদর্শ বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরিশেষে বলছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথিকৃৎ বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির এক অবিসংবাদিত নেতা। তিনি বাঙালির অধিকার এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। শুধু স্বাধীনতা অর্জনই নয়, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠা করতে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালান। বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতির জনকের অবদান তাই চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
লেখক: কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ, কো-চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি।

Development by: visionbd24.com