ঈদুল ফিতর সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে

মঙ্গলবার, ০৩ মে ২০২২ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ | 17 বার

ঈদুল ফিতর সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে

ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দিনটি অশেষ তাৎপর্য ও মহিমায় অনন্য। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ নিয়ে আসে পরম আনন্দ ও খুশির ঈদ। রোজাদার যে পরিচ্ছন্নতার ও পবিত্রতার সৌকর্য দ্বারা অভিষিক্ত হন, যে আত্মশুদ্ধি, সংযম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, উদারতা, বদান্যতা, মহানুভবতা ও মানবতার গুণাবলি দ্বারা উদ্ভাসিত হন, এর গতিধারার প্রবাহ অক্ষুণ্ন রাখার শপথ গ্রহণের দিন হিসেবে ঈদুল ফিতর আসে। ধনী-গরীব সবাই মিলে এক কাতারে শামিল হয়ে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।

ঈদের দিন মানুষ নানা প্রতিকূলতা, দুঃখ-বেদনা সব ভুলে সবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলিত হন। ঈদগাহে কোলাকুলি সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে সবাইকে নতুন করে আবদ্ধ করে। ঈদ এমন এক নির্মল আনন্দের আয়োজন, যেখানে মানুষ আত্মশুদ্ধির আনন্দে পরস্পরের মেলবন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হন এবং আনন্দ সমভাগাভাগি করেন।

প্রকৃতপক্ষে ঈদ ধনী-দরিদ্র, সুখী-অসুখী, আবালবৃদ্ধবনিতা সব মানুষের জন্য নিয়ে আসে নির্মল আনন্দের আয়োজন। ঈদ ধর্মীয় বিধিবিধানের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস নেয় এবং পরস্পরের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শিক্ষা দেয়।

ঈদুল ফিতর একাধারে আনন্দ-উৎসব ও ইবাদত। এই আনন্দ আল্লাহর অশেষ রহমত ও ক্ষমাপ্রাপ্তির, জাহান্নাম থেকে মুক্তির। এই আনন্দে নেই কোনো পাপ-পঙ্কিলতা। এ আনন্দে রয়েছে শুধুই সওয়াব ও পুণ্য। ঈদ মুসলমানদের জন্য শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, সম্প্রীতি-সৌভ্রাতৃত্ব শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষও। এই উৎসবের মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলমান একে অন্যের আরো কাছাকাছি আসে। শুধু মুসলমান নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গেও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।

পবিত্র রমজান আমাদের চিত্তশুদ্ধির যে শিক্ষা দিয়েছে, ঈদুল ফিতর হচ্ছে সেই শিক্ষা কাজে লাগানোর দিন।

ঈদুল ফিতরের সকালে বিশ্বাসী মানুষ ছুটে যায় ঈদের জামাতে। ঈদের নামাজ শেষে তারা একে-অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করে। মোমিনদের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে ঈদগাহের এ মিলনমেলা। মানুষ উৎসবী পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন মনমানসিকতা দিয়ে একে-অন্যের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পবিত্র জীবনযাপন করবে আল্লাহ তেমনটিই চান। এ উৎসবে সমাজের ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সব বিশ্বাসী মানুষ যাতে অংশ নিতে পারে সেজন্য রয়েছে আল্লাহর সুস্পষ্ট বিধান। এজন্যই সদকাতুল ফিতর আদায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রমজানের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা মানুষকে যেমন ত্যাগের শিক্ষা দেয়, তেমন ঈদ উৎসবকে ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে আত্মীয়স্বজন-প্রতিবেশীদের মধ্যে ভাগাভাগির তাগিদ দেয়।

লেখক: সিনিয়র সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী মোটর চালক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ।

Development by: visionbd24.com