ঋণখেলাপি প্রাথীর্ চিহ্নিত করতে ব্যাংকগুলোকে নিদের্শ

শুক্রবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৮ | ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ | 898 বার

ঋণখেলাপি প্রাথীর্ চিহ্নিত করতে ব্যাংকগুলোকে নিদের্শ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে যাতে কোনো ঋণখেলাপি প্রাথীর্ হতে না পারেন, সে জন্য দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিদের্শনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিবার্চন কমিশনের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নিবার্হীদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৮ নভেম্বর বিকাল ৫টার পর মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের নাম, পিতা/মাতা/স্বামীর নাম ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কতৃর্ক স্বউদ্যোগে সংশ্লিষ্ট রিটানির্ং অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রিটানির্ং অফিসারের কাছ থেকে নেয়া তথ্য প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট রিটানির্ং অফিসারকে ঋণ খেলাপ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিদের্শনায় বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার যোগ্য নন, বিধায় তারা জাতীয় সংসদ নিবার্চনে প্রাথীর্ হতে পারেন না। এতদপ্রেক্ষিতে, নিবার্চনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ব্যক্তিদের ঋণ খেলাপ সংক্রান্ত তথ্য সব তফসিলি ব্যাংক হতে সরবরাহ করা আবশ্যক।

নিদের্শনায় বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন উপলক্ষে ঋণ খেলাপ সংক্রান্ত তথ্য মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন কিংবা তার পূবের্ সংশ্লিষ্ট রিটানির্ং অফিসারকে প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কমর্কতার্গণকে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটানির্ং অফিসারের দপ্তরে উপস্থিত থাকার জন্যও নিদের্শনা দেয়া হলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর ২০১৮।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নিবার্হী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে নিবার্চন কমিশন (ইসি) থেকে চিঠি দেয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি টিমও তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ‘ঋণখেলাপি প্রাথীের্দর তথ্য হালনাগাদ তৈরি করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও প্রয়োজনীয় নিদেশর্না দেয়া হয়েছে।’

এর আগে নিবার্চনে যাতে কোনো ঋণখেলাপি প্রাথীর্ হতে না পারেন, সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে গত ১২ নভেম্বর চিঠি দেয় ইসি। নিবার্চন কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নিবার্চনে ঋণ খেলাপি ব্যক্তিরা মনোনয়নপত্র দাখিল করলে যাতে তাদের প্রাথীর্ হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা যায়, তার জন্য আইনে নিধাির্রত সব ব্যাংক হতে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা আবশ্যক।

এর আগে ইসির চিঠি পাওয়ার পরই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণখেলাপিদের তথ্য হালনাগাদের জন্য মৌখিকভাবে নিদের্শ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিদের্শনায় ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা ছাড়াও নাগরিকত্ব, প্রাথীর্ কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন কিনা, প্রাথীর্ নিবার্চনী এলাকার বাইরে ঋণখেলাপি কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নিদের্শনা অনুযায়ী, পত্র-পত্রিকায় যাদের নাম আসছে, আমরা তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। যাতে কোনো ঋণখেলাপি আগামী নিবার্চনে প্রাথীর্ হতে না পারেন, সে ব্যাপারে আমরা শাখা ব্যবস্থাপকদেরও নিদের্শনা দিয়েছি।’

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবিতে ব্যাংকের পাশাপাশি আথির্ক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণগ্রহীতাদেরও তথ্যভাÐার গড়ে তোলা হয়েছে। ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অংকের ঋণখেলাপিদের তথ্য সিআইবিতে হালনাগাদ করে মাসিকভিত্তিতে। আর অন্য খেলাপিদের তথ্য হালনাগাদ করে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে। এরইমধ্যে সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত খেলাপিদের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। এখনও যারা খেলাপি ঋণ নিয়মিত করছে তাদের তথ্য সঙ্গে সঙ্গে হালনাগাদ করা হচ্ছে।

Development by: visionbd24.com