চলতি মাসে বিশ্বে জনসংখ্যা হবে ৮০০ কোটি

মঙ্গলবার, ০৮ নভেম্বর ২০২২ | ৩:২৫ অপরাহ্ণ | 12 বার

চলতি মাসে বিশ্বে জনসংখ্যা হবে ৮০০ কোটি

প্রতিদিনই বিশ্বে জনসংখ্যা বাড়ছে। এই লাগাম টানতে না পারলে, পরিস্থিতি ভয়ানক হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। জনসংখ্যার এই বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

আগামী ১৫ নভেম্বর বিশ্বে জনসংখ্যা ৮০০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে। আগামীতে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক বৈষম্য আরও বাড়বে বলে মনে করছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালে বিশ্বে জনসংখ্যা ছিল ২.৫ বিলিয়ন। ২০২২ সালে মাঝ নভেম্বর পর্যন্ত এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হচ্ছে প্রায় তিনগুণের বেশি।

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্ট-২০২২ অনুযায়ী, ভারত ২০২৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রধান নাটালিয়া কানেম বলেন, ৮০০ কোটি মানুষ মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ জন্য প্রত্যাশিত গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং মা ও শিশুমৃত্যু কমে আসার প্রশংসা করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, যদিও আমি বুঝতে পারছি, মুহূর্তটি সবাই উদ্যাপন নাও করতে পারে। আমাদের বিশ্বে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বলে কেউ কেউ উদ্বিগ্ন।

প্রজনন হারের এই ক্রমাবনতি জাপান, ইতালি, স্পেনসহ বেশ কিছু দেশের জন্য এখনই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ভাষ্য গবেষকদের। তাঁদের মতে, জাপানের জনসংখ্যা এ শতকের শেষ নাগাদ গিয়ে দাঁড়াবে মাত্র পাঁচ কোটি ৩০ লাখে, যেখানে ২০১৭ সালেও দেশটির জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। ইতালিতে ২০১৭ সালে জনসংখ্যা ছিল ছয় কোটি ১০ লাখ; প্রজনন হার কমতে থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দুই কোটি ৮০ লাখে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যে ২৩টি দেশের জনসংখ্যা নিয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে তাদের মধ্যে মাত্র দুটির জনসংখ্যা এখনকার চেয়ে অর্ধেকের কিছু বেশি থাকতে পারে, বলছেন গবেষকরা। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক ক্রিস্টফার মুরে বলেছেন, এটা ‘চোয়াল ঝুলে পড়া’র মতো ব্যাপার।

প্রজনন হার কমায় চীনের জনসংখ্যাও আগামী আট দশকে অনেক কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা হবে ১৪০ কোটি, যা সর্বোচ্চ শিখর। পরে কমতে কমতে ২১০০ সাল নাগাদ হবে ৭৩ কোটি ২০ লাখ।

গবেষকদের ধারণা, যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা ২০৬৩ সালে হবে সবচেয়ে বেশি, সাত কোটি ৫০ লাখ। ২১০০ সালে সেটি কমে নামবে সাত কোটি ১০ লাখে।

বিশ্বের ১৯৫টি দেশের ১৮৩টিতেই প্রজনন হার এমন হবে যে তা আর প্রতিস্থাপনযোগ্য থাকবে না; ফলে বিষয়টি সবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। জনসংখ্যা কমলে কার্বন নিঃসরণ কমবে, কমবে বন-বনাঞ্চলের বিনাশ। ফলে প্রজনন হার কমাকে অনেকে ‘ভালো’ বললেও বিজ্ঞানীরা খুশি হতে পারছেন না। কেননা, তাঁদের হিসাবে ২১০০ সাল নাগাদ তরুণদের তুলনায় বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা এখনকার অনুপাতে অনেক বেশি থাকবে।

অধ্যাপক মুর বলেন, ‘এটি সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বৃদ্ধদের এ পৃথিবীতে কারা কর দেবে? বেশি বয়সীদের স্বাস্থ্যসেবায় কারা অর্থ খরচ করবে? কারা তাঁদের দেখভাল করবে? সে সময় চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ থাকবে তো?’

জনসংখ্যা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের মতো অনেক দেশই কয়েক বছর ধরে অভিবাসনের ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ দেশেরই জনসংখ্যা যখন সংকুচিত হতে শুরু করবে, তখন শুধু অভিবাসনের মাধ্যমে এ সংকটের সুরাহা হবে না। প্রজননে উৎসাহিত করতে অনেক দেশ সবেতন পিতৃত্বকালীন ও মাতৃত্বকালীন ছুটি, বিনা মূল্যে শিশুসেবাসহ নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে। তবে এগুলোই সমাধান, তা-ও বলা যাচ্ছে না।

‘আপনি যদি কোনো সমাধান বের করতে না পারেন, তাহলে মানব প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। যদিও তা হতে আরো বশ কয়েকটি শতক লাগবে’, বলেছেন অধ্যাপক মুরে। তবে প্রজনন হার বাড়াতে গিয়ে নারীর স্বাস্থ্য ও অধিকারের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। তেমনটা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিবিসি ও টিবিএস

Development by: visionbd24.com