১৩ দফা নালিশ ইসিতে

জনপ্রশাসন ও পুলিশের ৯২ কমর্কতার্য় আপত্তি ঐক্যফ্রন্টের

শুক্রবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৮ | ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ | 878 বার

জনপ্রশাসন ও পুলিশের ৯২ কমর্কতার্য় আপত্তি ঐক্যফ্রন্টের
বৃহস্পতিবার নিবার্চন কমিশনে জনপ্রশাসন ও পুলিশের ঊধ্বর্তন ৯২ কমর্কতার্র তালিকা জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

তিন সচিবসহ জনপ্রশাসনের ২২ কমর্কতার্ এবং অতিরিক্ত আইজিপি, র‌্যাব ডিজি, ডিএমপি কমিশনারসহ মোট ৭০ পুলিশ কমর্কতার্র প্রত্যাহার চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এছাড়া বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির ছেলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সভা হয়েছে দাবি করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়সহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৩ দফা নালিশ দিয়েছে নিবার্চন কমিশনে।

ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে বিএনপির প্যাডে মিজার্ ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব বিষয়ে আলাদা আলাদা চিঠি দেন প্রধান নিবার্চন কমিশনারের কাছে। বৃহস্পতিবার দলের যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এসব চিঠি ইসির সচিবের দপ্তরে জমা দেন।

চিঠির সঙ্গে একটি তালিকায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ জনপ্রশাসনের ৩ সচিব, জ্যেষ্ঠ কয়েকজন কমর্কতার্ ও কয়েকজন জেলা প্রশাসকসহ ২২ জনের নাম রয়েছে। আরেক তালিকায় পুলিশের শীষর্ পযার্য় থেকে পুলিশ সুপার পদমযার্দার ৭০ জন কমর্কতার্র নাম রয়েছে। তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। কী কারণে তাদের প্রত্যাহার করা দরকার তাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ঐক্যফ্রন্টের প্রত্যাহার চাওয়া ২২ কমর্কতার্ হলেনÑ নিবার্চন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, ভোলার ডিসি মো. মাসুদ আলম সিদ্দিকী, চট্টগ্রামের ডিসি মো. ইলিয়াস হোসাইন, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর, ফেনীর ডিসি মো. ওয়াহেদুজ্জামান, ল²ীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, কিশোরগঞ্জের ডিসি মো. সারোয়ার মোশের্দ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, টাঙ্গাইলের ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের ডিসি সরোজ কুমার নাথ, খুলনার ডিসি মোহম্মদ হেলাল হোসাইন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসাইন, নড়াইলের ডিসি আঞ্জুমান আরা, ময়মনসিংহের ডিসি ড. শুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, জয়পুরহাটের ডিসি মোহম্মদ জাকির হোসাইন, নওগাঁর ডিসি মো. মিজানুর রহমান, রাজশাহীর ডিসি এস এম আবদুল কাদের ও সিলেটের ডিসি কাজী ইমদাদুল হক।

প্রত্যাহার চাওয়া ৭০ পুলিশ কমর্কতার্ হচ্ছেনÑ পুলিশ হেডকোয়াটাের্সর্র অ্যাডিশনাল আইজিপি মোখলেছুর রহমান, ডিজি র‌্যাব বেনজির আহম্মেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, অ্যাডিশনাল আইজিপি (টেলিকম) ইকবাল বাহার, ডিআইজি নৌপুলিশ শেখ মো. মারুফ হাসান, ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ কামরুল আহাসান, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ খন্দকার গোলাম ফারুক, ডিআইজি খুলনা রেঞ্জ দিদার আহম্মেদ, ডিআইজি রাজশাহী রেঞ্জ এম খুরশীদ হোসেন, কেএমপি কমিশনার (ডিআইজি) হুমায়ুন কবির, অ্যাডিশনাল কমিশনার কাউন্টার টেরোরিজম ডিএমপি মো. মনিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মাহাবুবুর রহমান (রিপন), ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মির রেজাউল আলম, ঢাকা সিটি এসবির ডিআইজি মো. আলী মিয়া, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচাযর্, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, হেড কোয়াটাের্রর ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান, হেড কোয়াটাের্রর ডিআইজি (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন, আরএমপির ডিআইজি হাফিজা আক্তার, ডিআইজি ট্রেনিং বরিশাল ড. খ মহিদ উদ্দিন, ডিএমপির ডিআইজি আব্দুল বাতেন, র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, খুলনা রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, পুলিশ হেড কোয়াটাের্রর এডিশনাল ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিলেট রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র, ঢাকা রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান, ডিবির জয়েন্ট কমিশনার মাহবুব আলম, সিআইডির এসপি মোল্যা নজরুল ইসলাম, টুরিস্ট পুলিশের এএসপি আলতাফ হোসেন, তেজগাঁওয়ের ডিসি (ডিএমপি) বিপ্লব কুমার সরকার, ডিএমপির ডিসি হারুন-অর রশিদ, রমনার ডিসি মারুফ হোসেন সরদার, সিএমপির ডিসি এসএম মেহেদী হাসান, ডিএমপির ডিসি খন্দকার নুরুন নবী, সিএমপির ডিসি মো. ফারুকুল হক, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ডিসি প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার, ডিএমপির ডিসি এসএম মুরাদ আলী, ডিএমপির এডিশনাল ডিসি শিবলি নোমান।

এছাড়া এসপিদের মধ্যে রয়েছেনÑ ঢাকার এসপি শাহ মিজান সফি, নারায়ণগঞ্জের মো. আনিসুর রহমান, মুন্সীগঞ্জের এসপি মো. যায়েদুল আলম, নরসিংদীর মিরাজ, টাঙ্গাইলের সঞ্জিত কুমার রায়, মাদারীপুরের সুব্রত কুমার হাওলাদার, ময়মনসিংহের শাহ আবিদ হোসেন, শেরপুরের আশরাফুল আজিম, সিলেটের মনিরুজ্জামান, বরিশালের সাইফুল ইসলাম, ভোলার মুক্তার হোসেন, খুলনার এসএম শফিউল্লাহ, সাতক্ষীরার সাজ্জাদুর রহমান, বাগেরহাটের পঙ্কজ চন্দ্র রায়, যশোরের মঈনুল হক, ঝিনাইদহের হাসানুজ্জামান, কুষ্টিয়ার আরাফাত তানভির, চট্টগ্রামের নূরে আলম মিনা, নোয়াখালীর ইলিয়াস শরিফ, ফেনীর এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, কুমিল্লার সৈয়দ নরুল ইসলাম, রংপুরের মিজানুর রহমান, দিনাজপুরের সৈয়দ আবু সায়েম, ঠাকুরগাঁওয়ের মনিরুজ্জামান, রাজশাহীর শহীদুল্লাহ, চঁাপাইনবাবগঞ্জের মোজাহেদুল ইসলাম, নওগাঁর ইকবাল হোসেন, নাটোরের সাইফুল্লাহ, বগুড়ার আশরাফ আলী, সিরাগঞ্জের টুটুল চক্রবতীর্ এবং পাবনার এসপি রফিক ইসলাম।

চিঠি দেয়ার পর মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেন, নিবার্চনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য পুলিশের দলবাজ ও রাজনৈতিক মতাদশের্র অনুসারী কমর্কতাের্দর নিবার্চনী দায়িত্ব না দেয়ার জন্য বলেছেন। পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারের মতো পদধারী ৬০ জনের বেশি কমর্কতাের্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। যারা সমতল মাঠকে অসমতল করার কাজে ব্যস্ত, তাদের নাম, পদবি, কমর্স্থলসহ সকল তথ্য নিবার্চন কমিশনের কাছে দিয়েছেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সিইসি নিরপেক্ষ থাকার জন্য পুলিশকে আহŸান জানিয়েছেন। আহŸান জানানো মানে অনুরোধ করা। তিনি তো নিদের্শ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিবার্চন কমিশনের দায়িত্বশীল কমর্কতার্র সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তাদের কাছে দালিলিক কাগজপত্র উপস্থাপন করেছেন। নিবার্চনের তফসিল ঘোষণার পরে সরকার কিংবা নিবার্চন কমিশনের কমর্কতার্ যে কাজগুলো করতে পারেন না, সে কাজগুলো অনবরত করা হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ তাদের কাছে তুলে ধরেছেন এবং প্রতিকার চেয়েছেন।

ভবিষ্যতে যাতে এসব কমর্কাÐের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা যেগুলো তাদের চোখে পড়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো রাষ্ট্রপতি তাদের সবার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। ওনার পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। বঙ্গভবনে এলাকার লোকজন নিয়ে নিবার্চনী প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সেখানে তাদের রাষ্ট্রীয় খরচে আদর-আপ্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো প্রভাব বিস্তারের একটা অন্যতম উদাহরণ হিসেবে তারা মনে করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এনটিএমসি ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) বিতকির্ত দলকানা কমর্কতার্-কমর্চারীরা আছেন বলে মনে করেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিরা কিছুদিন আগে থেকেই কাযর্ক্রম শুরু করেছেন। তারেক রহমানের স্কাইপ কথোপকথন বন্ধ করেছেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কাযার্লয়ের আশপাশে ইন্টারনেট কাযর্ক্রম বন্ধ করেছেন, যেটাও আচরণবিধির লঙ্ঘন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার এখনো চলছে। বুধবার রাতেও বিভিন্ন জায়গায় গ্রেপ্তার হয়েছে। তার মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও রয়েছেন। পোস্টার, বিলবোডর্সহ প্রচারণাসামগ্রী সরানোর যে নিদের্শনা কমিশন থেকে দেয়া হয়েছিল, তা কাজে আসেনি। এখনো ঢাকা শহরের বহু জায়গায় নৌকা ও লাঙ্গলের পোস্টার রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। উপরন্তু, সিটি করপোরেশন ও আরও কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারের উন্নয়ন কাজের নামে নৌকার পক্ষে প্রচারকাজ অবিরাম চালানো হচ্ছে। এটা বন্ধ করার দাবি করা হয়েছে।

আলাল বলেন, তারা ঢালাও অভিযোগ করেন না। লিখিতভাবে সব তথ্যপ্রমাণসহ দিয়ে গেলেন। গণহারে আওয়ামীপন্থি কমর্কতার্ ও শিক্ষকদের নিবার্চন কমর্কতার্ নিয়োগ করা হচ্ছে। এঁদের সঙ্গে জনপ্রশাসনের দলবাজ কমর্কতাের্দরও প্রত্যাহার চাওয়া হয়েছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের ভোট গ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ নভেম্বর। বাছাই ২ ডিসেম্বর, প্রাথির্তা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দের সময় ১০ ডিসেম্বর পযর্ন্ত।

Development by: visionbd24.com