ফিলিপাইন নাগরিকদের ধোকা দিতেই আরসিবিসির মামলা : আইনমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০১৯ | ৩:২৩ অপরাহ্ণ | 444 বার

ফিলিপাইন নাগরিকদের ধোকা দিতেই আরসিবিসির মামলা : আইনমন্ত্রী

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন-আরসিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে তা আইনি আচরণ বিধি মেনে করেনি –এ মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনসিুল হক। বৃহস্পতবিার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

মামলার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা মানহানির মতো কোনো বিষয় ছিলো না। ওটা ফিলিপাইন নাগরিকদের ধোকা দিতেই করেছে বলে মনে হচ্ছে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আরসিবিসির কর্মকর্তাদের আচরণটা আমার কাছে আইনী আচরণ মনে হয়নি, আমার মনে হয় তারা নিজেদের দেশের মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য মামলাটা করেছে।

তিনি আরো বলেন, এই কথা বলছি এই কারণে, ফিলিপিন্স সরকার ফিলিপাইনের সিনেট পর্যন্ত হ্যাকিংয়ের কারণে বা আচরণে বা কন্ডাক্টের জন্য আরসিবিসিকে দায়ী করেছে। সেখানে বাংলাদেশ আইনী পন্থায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে সেটা মানহানিকর কিছু নয়।

তিনি বলেন, জাপান- বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ—রাজধানীর হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার মামলার আপটেড দেয়া হয়েছে। সরকার বিচারের বিষয়ে এখন অনেক এগিয়ে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিচার ব্যবস্থা তৃণমূলে পৌঁছে দিতে উপজেলা আদালত করার যে কথা ছিল তা হচ্ছে না তবে প্রতি উপজেলায় একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ থাকবে যিনি মামলা শুরুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান আইনমন্ত্রী।

আনিসুল হক বলেন, উপজেলাতে আদালত গঠন করার কোনো চিন্তাভাবনা নেই। আগে উপজেলায় আদালত ছিল। আমরা যেটা করছি, অলরেডি বিদ্যমান, সেটা হচ্ছে- একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে একটা উপজেলার জন্য ডেজিগনেট করা হচ্ছে, যাতে সেই উপজেলার মামলাগুলো ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যায় এবং দ্রুত কার্যক্রম শুরু হয়। এটা দিয়েই আমরা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছি। সেই কারণে উপজেলা পর্যায়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানোর প্রয়োজনিয়তা আছে বলে আমার মনে হয় না।

আগামী বছর ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারপতি নির্বাচনে ভোট হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, জাপান একজন বিচারপতিকে সেখানে প্রার্থী করতে চায় এবং সাউথ এশিয়ার জন্য যে সিট আছে সেটায় নির্বাচন করবেন, সেখানে বাংলাদেশে সমর্থন চান।

আমি অন্য প্রার্থীদের বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছি, আপাতত তারা জানতে পেরেছেন ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম ক্যান্ডিডেট হতে পারে। আমরা যেহেতু আগামী নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দিচ্ছি না সেহেতু আমি তাকে বলেছি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এনিয়ে আলাপ-আলোচনা করে জাপানের প্রতি আমাদের সমর্থন কনফার্ম করব।

আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের দুঃসময়ে জাপানের সহযোগিতা এবং তাদের জনগণের সহমর্মিতার জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করার জন্য জাপান সহযোগিতা করায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। এছাড়া হলি আর্টিজানের মামলার বিষয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূতকে হালনাগাদ তথ্য দেয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

Development by: visionbd24.com