বনানীতে চিরনিদ্রায় সৈয়দ আশরাফ

সোমবার, ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ১:৩০ পূর্বাহ্ণ | 582 বার

বনানীতে চিরনিদ্রায় সৈয়দ আশরাফ

সংরক্ষিত এলাকা জাতীয় সংসদ ভবন। সাধারণের চলাচলে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তার ওপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। কিন্তু গণমানুষের প্রিয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জানাজাকে ঘিরে মুহূর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতেও দাঁড়িয়ে ছিল অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

সংসদ ভবনের পর কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহে আরো দুটি জানাজা শেষে আসর নামাজের পর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় সৈয়দ আশরাফকে।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সৈয়দ আশরাফের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘর থেকে তাঁর মরদেহ সেখানে এসে পৌঁছে। ঠিক সাড়ে ১০টায় পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শুরু হয়। জানাজা শেষে পুলিশের একটি দল এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

তখন বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। চারদিকে নেমে আসে এক অন্য রকম নিঃস্তব্ধতা। জানাজাকে ঘিরে পুরো সংসদ ভবন এলাকায় ছিল শোকের পরিবেশ। অনেককেই নীরবে চোখের জল ফেলতে দেখা যায়। সহযোদ্ধাদের শোক ও সমবেদনা জানাতে দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের জানাজা শেষে তাঁর কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারিকে শ্রদ্ধা জানানোর সময় প্রধানমন্ত্রী মরদেহের পাশে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহকর্মীর মৃত্যুতে তাঁকে শোকার্ত দেখা যায়।

জানাজার আগে সৈয়দ আশরাফের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তাঁর ভাই সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। পরে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য, সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্য, সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ।

সংসদ ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, তাঁর মৃত্যুতে আওয়ামী লীগে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় তিনি যখন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি তাঁর কর্মে সুপরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন নির্লোভ, নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগে যত গ্রুপিংই থাকুক না কেন, তাঁকে কখনো কেউ গ্রুপিংয়ে জড়াতে পারেনি। অত্যন্ত মেধাবী এই নেতাকে অনন্তকাল মনে রাখবে জনগণ।

বনানী কবরস্থানে শেষশয্যা : সৈয়দ আশরাফকে গতকাল আসর নামাজের পর রাজধানীর বনানী কবরস্থানের এ ব্লকে সমাহিত করা হয়। এ সময়ে সৈয়দ আশরাফের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমসহ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীরা। সৈয়দ আশরাফের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাহিত করার পর সৈয়দ আশরাফের কবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র, বনানী থানা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দাফন শেষে সৈয়দ আশরাফের চাচাতো ভাই এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু দেশবাসীর কাছে আশরাফের বিদেহী আত্মার প্রতি দোয়া কামনা করেন।

Development by: visionbd24.com