শীত উপেক্ষা করে ভোটারদের ভিড়

রবিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ | 579 বার

শীত উপেক্ষা করে ভোটারদের ভিড়

সারা দেশে শুরু হয়ে গেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট উৎসব। হাড়কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে সকাল আটটার আগেই ভোটকেন্দ্রে ছুটে গেছেন অনেক ভোটার। কেন্দ্রের গেট খোলার আগেই ভোটাধিকার প্রয়োগে হাজির হয়েছেন কেন্দ্রের সামনে। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় আছেন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য।

রাজধানীর কাঁঠালবাগানের খান হাসান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ভোটকেন্দ্রটি পড়েছে ঢাকা-১০ আসনের ভেতরে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রের মূল গেট বন্ধ রয়েছে। আটটায় খোলা হবে গেট। কিন্তু বাইরে তিন সারিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৬০০ ভোটার। তাদের অধিকাংশই পুরুষ।

অপেক্ষারতদের মধ্য থেকে কথা হলো বিল্লাল নামে এক তরুণ ভোটারের সঙ্গে। এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন তিনি। জানালেন, ‘প্রথম ভোটার হয়েছি। তাও আবার জাতীয় নির্বাচনে। সকালে ভোট দিব এই উত্তেজনায় রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি। তাই সকাল সকালই চলে আসলাম কেন্দ্রে।’

শামসুল নামে এক কাঁচামালের ব্যবসায়ী জানালেন, জন্মস্থান জামালপুর হলেও গত ১৯ বছর ধরে তিনি কাঁঠালবাগান এলাকায় রয়েছেন। ১৯ বছর ধরেই তিনি কাঁঠালবাগান বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। সেই সূত্রে ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হয়েছেন তিনি। শামসুল জানালেন, ‘ভোট যখন দিতে হইবো আগে দেওনই ভালা। গিয়া তরকারি বেচতে হইবো। সকালে বেশি কাস্টমার আহে।’

ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুল মান্নান। আসনটিতে বর্তমান বিরোধীদল জাতীয় পার্টি থেকে মো. হেলাল উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মহাম্মদ এরশাদের ঘোষণায় শেষ মুহূর্তে তিনি সরে দাড়িয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলামোটরের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকালের দিকে ভোটারের ভিড় ছিল কিছুটা কম। কেন্দ্রটিতে দুই লাইনে প্রায় তিনশ ভোটার অপেক্ষমাণ। একটি পুরুষের লাইন, অন্যটি নারীদের। দলীয় বুথগুলোতেও ভিড় মোটামুটি। গেট দিয়ে একজনের বেশি ভোটারকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। একজন ভোট দিয়ে বের হলেই অন্যজন ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন। এ দুটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে।

ঢাকা-৮ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়ে ভোটে লড়ছেন তিনি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। দুই প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন ভোটাররাও।

এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ২৬০ জন। বাকি ৩৯ আসনে লড়ছেন জাতীয় পার্টিসহ মহাজোটের অন্যান্য শরিকরা। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ২২৬ জন। এছাড়া আছে ঐক্যফ্রন্টের ১৯ ও জামায়াতের ২২ জন। ১৮টি আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন বিএনপির শরিকরা।

এ বছর ভোট দিচ্ছেন ১০ কোটিরও বেশি ভোটার। ২৯৯ আসনে ৪০ হাজার ৫১টি কেন্দ্রে চলছে ভোটগ্রহণ। মোট ভোটকক্ষ রয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার ৬৯১টি। ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১০ কোটি ৩৮ লাখ ২৬ হাজার ৮২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার পাঁচ কোটি ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬২০ জন এবং নারী ভোটার পাঁচ কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ২০৩ জন।

Development by: visionbd24.com