সুবর্ণচরের ধর্ষণের সঙ্গে ভোটের সম্পর্ক মেলেনি

সোমবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯ | ১১:০১ পূর্বাহ্ণ | 759 বার

সুবর্ণচরের ধর্ষণের সঙ্গে ভোটের সম্পর্ক মেলেনি

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করার সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক থাকার প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে কমিশনের তথ্যানুসন্ধান কমিটি ঘটনা সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন করেছে। তবে ধর্ষণের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে মারধর ও ধর্ষণ করার কোনো সম্পর্ক তদন্ত কমিটির সামনে উন্মোচিত হয়নি। বরং ভুক্তভোগীর স্বামীর করা মামলার এজাহারে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আসামিরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে ভুক্তভোগীকে মারধর ও ধর্ষণ করেছে। ’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘ভুক্তভোগী তদন্ত কমিটির সামনে দেওয়া জবানবন্দির কোথাও বলেননি যে তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। ’

অবশ্য প্রতিবেদনের একটি অংশে ভুক্তভোগী নারীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তিনি ১৪ নম্বর ভোটকেন্দ্রে যান; তাঁকে নৌকায় ভোট দিতে বলা হলে তিনি বলেন, তাঁর ভোট তিনি দেবেন। তখন আসামিরা বলে, যান বিকেলে খবর আছে। সোহেল বলে রাইতে দেখা করবে, সন্ধ্যার পর তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েন। ’ এরপর প্রতিবেদনে রাত সাড়ে ১২টার পর মারপিট ও ধর্ষণের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভোট দেওয়ার কারণে তাঁর ধর্ষণ ও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া বা আসামিদের আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়া বা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মী দ্বারা তাঁর মারপিট ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না। ’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বামীর জবানবন্দি, মামলার এজাহারের ভাষ্য, ইনজুরি সার্টিফিকেট ও প্যাথলজিক্যাল প্রতিবেদন একত্রে বিশ্লেষণ করে এবং গাইনি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ’ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে।

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের রাতে সুবর্ণচরে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ্ব ওই নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, আওয়ামী লীগে ভোট না দেওয়ায় তাঁর ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তথ্যানুন্ধান কমিটি গঠন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এরপর কমিশনের পরিচালক আল-মাহমুদ ফায়জুল কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি সুবর্ণচরে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে।

উল্লেখ্য, ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনসহ এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রুহুলকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

Development by: visionbd24.com