স্কুল থেকে ফেরার পথে ট্রাক চাপায় মর্মান্তিক মৃত্যু ভাই-বোনের

মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ | ৯:০০ পূর্বাহ্ণ | 642 বার

‘রাস্তায় পড়ে আছে লাল-সবুজের দুটি স্কুলব্যাগ। পাশে শোয়া আফসার (৭) ও আফরিন (৯) নামের দুই শিশু। তারা সম্পর্কে ভাই-বোন। রক্তাক্ত তাদের শরীর। তখন বেলা সোয়া ১১টা। কোনো আওয়াজ নেই আফরিনের মুখে। তার পা দুটি শরীরের সঙ্গে নেই। বিচ্ছিন্ন হয়ে মাংসগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। আর আফসারের মাথা পিষে গেছে রাস্তার সঙ্গে।’ গতকাল এমনই মর্মান্তিক চিত্র দেখা গেছে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মোল্লারপুল এলাকায়। এ সময় নিষ্পাপ শিশু দুটির লাশ দেখে আঁতকে ওঠেন সবাই। নিথর দেহের পাশে পড়ে ছিল তাদের বাবার মোটরসাইকেলের ভাঙা টুকরাংশগুলো। তার আগে কেরানীগঞ্জের কসমোপলিটন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসার হোসেন ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিমা আফরিনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে রাজেন্দ্রপুরের পুরাহাটি এলাকায় বাড়ি ফিরছিলেন বাবা কলিম হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলিম হোসেন দুই সন্তানকে নিয়ে যখন প্রিয়াঙ্গন আবাসিক প্রকল্পের গেটের সামনে, তখনই মালবোঝাই একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হয়ে মারা যায় আফসার ও আফরিন। আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে মোটরসাইকেল চালক কলিমকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে কসমোপলিটন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে মহাসড়কে সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। ‘সড়কে আর কত প্রাণ ঝরবে’ ‘নিরাপদ সড়ক চাই’থ- এমন অনেক দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

Development by: visionbd24.com